নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনক্রমে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার নুরপুর রহমানিয়া দারুন্নেসা দাখিল মাদ্রাসার নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং বোর্ডের প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে আগামী ছয় মাসের জন্য এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রৌমারী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ মশিউর রহমান পলাশ।
এছাড়া মোঃ আনিছুর রহমানকে অভিভাবক সদস্য, ছামিনা আক্তারকে সাধারণ শিক্ষক সদস্য, এবং সুপার/ভারপ্রাপ্ত সুপারকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
নতুন এডহক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে মাদ্রাসার শিক্ষা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর মশিউর রহমান পলাশ বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা আমার প্রথম অগ্রাধিকার। আমি চাই, শিক্ষার্থীরা যাতে সর্বোচ্চ মানের শিক্ষা পেতে পারে এবং শিক্ষকদেরও যেন যথাযথ সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হয়।”
তিনি আরও বলেন, “মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে আমরা একটি যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই।”
স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও নতুন সভাপতির প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। তাদের আশা, মশিউর রহমান পলাশের নেতৃত্বে মাদ্রাসার শিক্ষা ও প্রশাসনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মাদ্রাসার স্বার্থপরিপন্থী কোনো কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হলে যে কোনো সময় এডহক কমিটি বাতিল করা হবে। এছাড়া, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়মিত কমিটি গঠনের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “বোর্ডের নির্দেশনা অনুসারে মাদ্রাসার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি কমিটি সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, তবে মাদ্রাসার সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত হবে।”
নতুন কমিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মাদ্রাসার একাডেমিক মান উন্নত করা, প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল আরও উন্নত করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ মাদ্রাসাগুলোর উন্নয়ন নির্ভর করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, মানসম্পন্ন শিক্ষাদান এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর। নতুন কমিটির সভাপতি মশিউর রহমান পলাশের দক্ষ প্রশাসনিক নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রত্যাশা, মাদ্রাসার শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে নতুন কমিটি সক্রিয় ভূমিকা রাখবে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
সভাপতি হিসেবে মশিউর রহমান পলাশ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আশাবাদী হয়ে উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবকদের অনেকেই বলেছেন, একজন রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে তার দক্ষতা আছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের মাদ্রাসাটি দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত। নতুন কমিটি যদি আন্তরিকভাবে কাজ করে, তাহলে অবশ্যই মাদ্রাসার অবস্থা ভালো হবে।”
একজন শিক্ষক বলেন, “শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করলে নতুন সভাপতিকে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করবো। আমরা চাই, মাদ্রাসার নাম উজ্জ্বল হোক।”
Leave a Reply