মোঃ ফরিদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারী শুল্ক স্টেশনে দীর্ঘ ১১ মাস ধরে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, প্রতি ট্রাকে ১২ মেট্রিক টন পাথর আমদানি করলেও শুল্ক নির্ধারিত হচ্ছে ২৫ মেট্রিক টনের ভিত্তিতে, যা তাদের জন্য অস্বাভাবিকভাবে ব্যয়বহুল। ফলে ব্যাপক লোকসানের মুখে ব্যবসা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন আমদানিকারকরা। কর্মসংস্থান হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শ্রমিকরা।
কুড়িগ্রামের রৌমারী শুল্ক স্টেশন একসময় কর্মচাঞ্চল্যে মুখর থাকলেও এখন সেখানে নীরবতা বিরাজ করছে। ফাঁকা পড়ে আছে বিশাল পাথর রাখার মাঠ, বন্ধ রয়েছে পাথর ভাঙার মেশিন। অথচ ২০১৮ সালে চালু হওয়ার পর থেকে এই শুল্ক স্টেশন দিয়ে নিয়মিত পাথর আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চলছিল, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল।
ব্যবসায়ীরা জানান, রৌমারী শুল্ক স্টেশন নতুন হওয়ায় এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো এখনও যথেষ্ট উন্নত হয়নি। ফলে প্রতিটি ট্রাকে ১২ মেট্রিক টনের বেশি পাথর আনা সম্ভব নয়। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রতি ট্রাকের শুল্ক নির্ধারণ করছে ২৫ মেট্রিক টনের ভিত্তিতে, যা তাদের আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
রৌমারী শুল্ক স্টেশনের আমদানি-রফতানি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলেপ উদ্দিন বলেন,“গত নভেম্বরে আমরা শুল্ক হ্রাসের আবেদন করেছিলাম। কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। যদি শুল্ক কমানো হয়, তবে আমরা আবারও পাথর আমদানি শুরু করতে পারব।”
শুল্ক স্টেশনে আমদানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন এখানকার শত শত শ্রমিক। যারা প্রতিদিন পাথর লোড-আনলোড ও ভাঙার কাজ করতেন, তারা এখন বেকার হয়ে পড়েছেন।
‘কুড়িগ্রাম সংবাদ’ প্রতিনিধি কে একজন শ্রমিক জানান, “আমাদের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দিন চলে না, ধার-দেনা করে কোনোমতে টিকে আছি।”
শ্রমিকদের অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প কাজের সন্ধানে ছুটছেন, কিন্তু সুনির্দিষ্ট কর্মসংস্থান না থাকায় তারা দিশেহারা।
শুল্ক জটিলতার সমাধানে প্রশাসন কাজ করছে বলে জানিয়েছেন রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল দিও। তিনি বলেন, “সরকারিভাবে শুল্ক স্টেশনটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে।”
রৌমারী শুল্ক স্টেশন দিয়ে আমদানি-রফতানি পুনরায় চালু হবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। ব্যবসায়ীরা আশাবাদী, শুল্ক জটিলতা দূর হলে তারা আবারও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারবেন। তবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন দীর্ঘায়িত হলে রৌমারীর অর্থনীতি আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply