জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা-২০২৪-এর ফরম পূরণের অতিরিক্ত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি প্রদান করেছে। ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (রবিবার) দুপুরে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মীর্জা মো. নাসির উদ্দিনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে এ স্মারকলিপি প্রেরণ করেন।
শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিপত্রে উল্লেখ করে, কুড়িগ্রাম দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে অন্যতম দরিদ্র জেলা। এ জেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। কিন্তু এখানে ১৬টি প্রধান নদী ও চার শতাধিক চর থাকায় প্রতি বছর খরা, বন্যা ও নদীভাঙনে কৃষকরা ফসল, জমি ও গবাদিপশু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। এরই মধ্যে দরিদ্র পরিবারগুলোর সন্তানরা উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করেই বিভিন্ন খাতে ফি বাড়িয়েছে। লিখিত পূর্ণপত্রের ফি ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা, অর্ধপত্র ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা, ইনকোর্স ফি ৩০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা, কেন্দ্র ফি ৪৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা, ব্যবহারিক ফি ১৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা এবং বিশেষ অন্তর্ভুক্তি ফি ৩০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের খরচ গড়ে ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ২,৩০০ থেকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা এই বর্ধিত খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মীর্জা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “আমাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। অনেকেই টিউশনি, অটোরিকশা চালানো কিংবা হোটেলে কাজ করে পড়াশোনার খরচ চালায়। অতিরিক্ত ফি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি উপাচার্য মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবেদন করেছে এবং আমরা কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধসহ প্রেরণ করেছি।”
স্থানীয় শিক্ষার্থীদের দাবি, দেশের আর্থসামাজিক বৈষম্যের বিষয়টি মাথায় রেখে ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।












Leave a Reply