আমিনুল ইসলাম,ফুলবাড়ী প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে গবাদিপশুর ক্ষুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে এক গ্ৰামেই ১২টি গরু মারা গেছে । ক্রমান্বয়ে রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক গবাদি পশুর মালিকেরা । ক্ষুরা রোগে প্রথমে গবাদিপশুর মুখ ও পায়ের ক্ষুরে আক্রমণ দেখা দেয়।এরপর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। মুখ ও জিহবা ও ক্ষুরা ফুলে যায়। গবাদিপশু খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ জানায়,ক্ষুরা হলো গরুর ফুট এন্ড মাউথ ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যায় সম্পূর্ণ সুস্থ করা সম্ভব। গরু মারা যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।
জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা বাজরের খামার গ্রামে গরুর ক্ষুরা রোগ দেখা দিয়েছে।এ রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর মালিকগণ এলাকার হাতুরে চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করালেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। ফলে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পাশাপাশি অনেকেই দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। গবাদিপশু মারা যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় সংবাদকর্মীর মাধ্যেমে প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানার পরেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়,গত রোববার থেকে শনিবার পর্যন্ত উপজেলার চন্দ্রখানার বাজরের খামার গ্ৰামের নাজমা বেগমের ২টি, জয়নালের ১টি, মোবারকের ১টি, লিয়াকতের ১টি, টুংকুর ১টি, রতনের ২টি, আশরাফুলের ১টি, কুমারপাড়ার লিটনের ১টি, সামাদের ১টি,ডাবলু মিয়ার ১টি গরু মারা গেছে। ছাড়াও গ্রামে গ্রামে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষকরা। এদিকে এই গ্রাম ছাড়াও উপজেলার এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় খামারিসহ মাঝারি ও ক্ষুদ্র মালিকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
এদিকে পানিমাছকুটি গ্রামের ফরহাদ হোসেন টুকু জানান, অনেক চিকিৎসা নেওয়ার পরও তার প্রায় দু’লাখ টাকার দামের একটি গরু বাচানো সম্ভব হয়নি। বাড়ির অন্যান্য গরু গুলো আক্রান্ত হয়ে হয়েছে।
উপজেলার আটিয়াবাড়ী গ্ৰামের খামারি জাইদুল ইসলাম বলেন, যেভাবে গরুর ক্ষুরা দেখা দিচ্ছে, তাতে তিনি গরু নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছেন।
ক্ষুরায় মারা যাওয়া গরুর মালিক নাজমা বেগম জানান, প্রথমে গরুর জ্বর আসে। এরপর কাঁপুনি শরু হয়। পরে মুখে লালা দেখা দেয় । খাওয়া বন্ধ হয়। অনেক টাকা খরচ করেও গরুর রোগ ভাল করতে পারি নাই। স্থানীয় পশু চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করেছি। কিন্তু শেষ রক্ষা পাইনি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরিফুল রহমান কনক জানান, আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেয়েছি বজরে খামার গ্রামে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে ৪ থেকে ৫টি গরু মারা গেছে। মূলত ওই গ্রামের একজন কৃষক বাজার থেকে ক্ষুধায় আক্রান্ত একটি গরু কিনে নিয়ে আসায় এই রোগটি দেখা দেয়। যার কারনে ভাইরাসজনিত ক্ষুরা রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। রোগাক্রান্ত গরুকে অন্য গরু থেকে আলাদা রাখাতে হবে। রোগ দেখা দিলে অফিসের সাথে যোগাযোগ রাখার জন্য গরুর মালিকদেরকে পরার্মাশ দেন।
Leave a Reply