অনলাইন ডেস্ক: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে যৌথ অভিযানে নেমেছে। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার ও প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনাই এ অভিযানের লক্ষ্য।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে যৌথ বাহিনীর এ অভিযানের কথা জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন থানাগুলোতে চলে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। লুট করা হয় পুলিশের অস্ত্র-গোলাবারুদ। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে কিছু উদ্ধার হলেও পাওয়া যায়নি বেশিরভাগই। সেসব অস্ত্র এবং আগে থেকে অনেকের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এ যৌথ অভিযান শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, গত ৬ আগস্ট থেকে সোমবার পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৪ হাজার অস্ত্র ও ৩ লাখ গোলাবারুদ। এ ছাড়া ২৩ হাজার রাউন্ড টিয়ার শেল এবং ২ হাজার ১৩৯টি সাউন্ড গ্রেনেডও উদ্ধার হয়।
লুট হওয়া অস্ত্রসহ সব অবৈধ অস্ত্রের খোঁজে এবার মাঠে নেমেছে প্রশাসন। ২০০৯ সাল থেকে লাইসেন্স পাওয়া সব বৈধ অস্ত্রও জমা দিতে হবে থানায়। পুলিশের বিশেষ শাখার তথ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে বৈধ অস্ত্রের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি।
তবে নিরাপরাধ কেউ যেন হয়রানির মুখে না পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারা। আর অভিযানের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছেন অপরাধ বিশ্লেষকেরা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল-আজাদ চৌধুরি বলেন, ‘ডিপার্টমেন্টের হারানো ভাবমূর্তি উদ্ধারে এবার সবাই তৎপর। সবাই আন্তরিক। এবারের যৌথ অভিযান আশা করছি যথাযথ হবে।’
সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘অপরাধপ্রবণ যেসব ব্যক্তি সমাজের বিশৃঙ্খল করতে চায় তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’
Leave a Reply