রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা: কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে অবস্থিত আমবাড়ী ফ্রেন্ডশিপ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি এক মাস ধরে তালাবদ্ধ। এতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের আমবাড়ী এলাকায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে ছিল ক্ষোভ, উদ্বেগ আর দ্রুত সমাধানের আকুতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মার্চ থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের জেরে পরিকল্পিতভাবে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, জমিদাতা পরিবারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার চাপ ছিল। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, মাসুদ রানা ও সোহেল রানার পরিবারের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত নিয়োগ না পাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম নাঞ্জু বলেন, “২০১৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছিল। বর্তমানে এখানে ২০০-এর বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু তালাবদ্ধ অবস্থার কারণে গত এক মাস ধরে শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নিচে, কখনো গাছতলায়, কখনো স্থানীয়দের বাড়িতে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে। চরাঞ্চলে বিকল্প কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় অভিভাবকরা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্তরা শর্ত দিয়েছেন—তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হলেই কেবল তালা খোলা হবে।
অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক সোহেল রানা অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বাবা জীবিত থাকতেই তালা দেওয়া হয়েছিল। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান ঐশী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, “আমরা আমাদের স্কুলে ফিরে যেতে চাই।” ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী লিটন মিয়াও একই আকুতি জানিয়ে দ্রুত বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার দাবি তোলে।
অভিভাবক এম এ সালাম সরকার ও আলতাফ হোসেন মাদো বলেন, “ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বন্দ্বে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সন্তানেরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চাই।”
এদিকে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
Leave a Reply