কুড়িগ্রাম সংবাদ ডেস্ক:
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে মানুষের যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনের প্রধান বাহন হয়ে উঠেছে ঘোড়ার গাড়ি। শুকনো মৌসুমে যখন নদী শুকিয়ে যায় এবং রাস্তাঘাট অচল হয়ে পড়ে, তখন এই ঐতিহ্যবাহী বাহনই হয়ে ওঠে চরের মানুষের একমাত্র ভরসা।
ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীবেষ্টিত উপজেলার হাতিয়া, সাহেবের আলগা, বেগমগঞ্জ, থেতরাই, দলদলিয়া ও বজরা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে শুকনো মৌসুমে চোখে পড়ে শুধুই বালুচর। এসব এলাকায় ঘোড়ার গাড়িই এখন মানুষের জীবিকা ও যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। কৃষকরা তাদের আলু, বাদাম, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসল, সার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে ব্যবহার করছেন ঘোড়ার গাড়ি। এমনকি অসুস্থ রোগীকেও হাসপাতালে নিতে ব্যবহৃত হচ্ছে এই গাড়ি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েকটি ঘোড়ার গাড়িতে সারের বস্তা, আলু ও নিত্যপণ্য তোলা হচ্ছে। চালকরা সারাদিন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পরিবহন কাজে।
গোড়াইপিয়ার চরাঞ্চলের ঘোড়ার গাড়িচালক মোরশেদুল ইসলাম বলেন,
“তিস্তার চরাঞ্চলে আলু, পেয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন সবজি চাষ হয়। প্রতি বস্তা মালামাল ঘাটে পৌঁছাতে ৫০ টাকা নেই, আবার একই দামে ফিরতি মালামাল আনি। দিনে প্রায় ৫০ বস্তা পরিবহন করি। এতে আয় হয় এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। ঘোড়ার খাবারে খরচ হয় ৩৫০ টাকা, বাকিটা দিয়ে সংসার চালাই।”
আরেক চালক ওবায়দুল, জিয়ারুল ইসলাম, আজিত মিয়া ও আসাদুল ইসলাম জানান, শুকনো মৌসুমে ৪-৫ মাস ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে পরিবহন চলে। মে মাসের মাঝামাঝি তিস্তা নদীতে পানি এলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়, তখন তারা অপেক্ষা করেন নদী শুকানোর।
চরাঞ্চলের আলু চাষি আলমগীর মিয়া বলেন,
“আমি সাড়ে তিন একর জমিতে আগাম আলু চাষ করেছি। প্রায় ৩০০ বস্তা আলু ঘাট থেকে ঘোড়ার গাড়ি করে চরে এনেছি। বস্তা প্রতি ৫০ টাকা করে ভাড়া দিয়েছি। চরে তো কোনো রাস্তা-ঘাট নাই, ঘোড়ার গাড়িই একমাত্র ভরসা আমাদের।”
এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা বলেন,
“ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার চরের মানুষের কাছে ঘোড়ার গাড়ি এখন একমাত্র যাতায়াতের বাহন। এসব এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। এতে কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে।”
Leave a Reply