জবি প্রতিনিধি:
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বিশ্বের সকল শিক্ষককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানিয়েছে দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।
রবিবার (৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে ইউটিএল নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশ্ব শিক্ষক দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি শিক্ষকতার পেশাগত গুরুত্ব, শিক্ষকদের অধিকার এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে তাঁদের অবদানকে স্মরণ ও মূল্যায়নের দিন। শিক্ষকরা জাতির আলোকবর্তিকা। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জ্ঞান, বিজ্ঞান, মানবিকতা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার আলো ছড়িয়ে তাঁরা আদর্শ সমাজ গঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নন তাঁরা গবেষণা, উদ্ভাবন, সমালোচনামূলক চিন্তার বিকাশ এবং সামাজিক পরিবর্তনের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বেই গড়ে উঠছে উন্নত, মানবিক ও জ্ঞাননির্ভর জাতির ভিত।
সংগঠনটি বলেছে, শিক্ষক সমাজকে যথাযথ মর্যাদা প্রদান, তাঁদের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম দায়িত্ব। শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের জন্য কাঠামোগত সংস্কার, নীতিগত সহায়তা এবং টেকসই বিনিয়োগ প্রয়োজন।বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকেরা পর্যাপ্ত গবেষণা সুবিধার অভাব, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক মূল্যায়নের ঘাটতির মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন।
বিবৃতিতে ইউটিএল নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা ও পেশাগত স্বাতন্ত্র নিশ্চিত করতে হবে; শিক্ষাক্ষেত্রে টেকসই বিনিয়োগ বাড়াতে হবে; শিক্ষকদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধাসহ স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তন করতে হবে; এবং পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে হবে।
ইউটিএল মনে করে, যত বেশি একজন শিক্ষককে সম্মান, স্বাধীনতা ও সহযোগিতা দেওয়া হবে, তত বেশি তিনি নিষ্ঠা ও সৃজনশীলতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়াতে পারবেন। শিক্ষকদের প্রতি সর্বস্তরে সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করা হোক। কারণ শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা করা মানেই জ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা, আর জ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধাই একটি জাতিকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দেয়।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ইউটিএল দেশ-বিদেশের সকল শিক্ষককে গভীর শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেছে, বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজ জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও অগ্রসর জাতি গঠনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন এই প্রত্যাশা জানাই।
Leave a Reply