নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৪ জুন ২০২৫
শিশুদের পুষ্টি ঘাটতি পূরণ, শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া রোধে কুড়িগ্রামের সাত উপজেলায় চালু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এই প্রকল্পটি দেশের ১৫০টি উপজেলায় একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের সহায়তা ও সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় ভুরুঙ্গামারী, চিলমারী, কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, রাজিবপুর, রাজারহাট ও রৌমারী উপজেলাগুলোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে পুষ্টিকর খাদ্য পাবে। কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এসব উপজেলায় কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
কী থাকবে খাদ্যতালিকায়?
সপ্তাহজুড়ে শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে পুষ্টিকর ও বৈচিত্র্যময় খাদ্য:
এই খাদ্যতালিকার মাধ্যমে শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশ ও মানসিক মনোযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি স্কুলমুখী আগ্রহও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপকারভোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও কাঠামো
পুরো দেশে মোট ৩১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী এই প্রকল্পের আওতায় পুষ্টিকর খাবার পাবে। এতে অংশ নিচ্ছে ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কুড়িগ্রাম জেলার সাতটি উপজেলাই এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকা অগ্রাধিকার
কর্মসূচিতে নির্বাচিত ১৫০টি উপজেলার মধ্যে ১৩৫টি উপজেলা উচ্চ বা অতি উচ্চ দারিদ্র্যপ্রবণ। এই এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে। বাকি ১৫টি উপজেলা অপেক্ষাকৃত উন্নত হলেও কর্মসূচির প্রভাব বিশ্লেষণের লক্ষ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রত্যাশিত ফলাফল ও তদারকি
প্রকল্পটি কেবল শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করেই থেমে থাকবে না; বরং এটি প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিশুদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়ার হার হ্রাস, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সামাজিক উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
একটি যৌথ পর্যবেক্ষণ কমিটি এই কর্মসূচির সার্বিক তদারকিতে থাকবে, যেখানে শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকবেন।
শুরুর সম্ভাব্য সময়সূচি
জুলাই মাস থেকে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবিক জটিলতা থাকলে আগস্ট ২০২৫ থেকে এই ফিডিং কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ।
Leave a Reply