এফ কে আশিক, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড থেকে ধলডাঙ্গা শালজোড় ঘাটপার পর্যন্ত সাড়ে আট কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার মেরামত কাজ এখনো শেষ না হতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিংয়ের পাথর ও পিচ। হাতের খোঁচায় উঠে আসছে পিচের ঢালাই, কোথাও কোথাও পায়ে ঘষা লাগলেও উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং। এতে করে রাস্তার নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে সাব কন্ট্রাকে কাজ বাস্তবায়নকারী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে।
প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ কোটি ৭৭ লাখ ৫৫ হাজার ২২৮ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করছে কুড়িগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “আরএবি-আরসি-বিসি-এইচটি জেভি”, যারা পরে কাজটি সাব কন্ট্রাকে বেলাল হোসেনের কাছে হস্তান্তর করেন। কাজের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কাজের প্রায় ৮৫ শতাংশ শেষ হলেও, বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, বিটুমিনের পরিমাণ কম, পুরুত্ব অনিয়মতান্ত্রিক এবং রাস্তা পরিষ্কারের আগে কার্পেটিং করা হয়েছে। ফলে গাড়ির চাকা ও মানুষের পায়ে লেগেই উঠে যাচ্ছে পিচ।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাজের নিম্নমানের চিত্র ও ভিডিও ভাইরাল হলে স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দেয়।
সাব কন্ট্রাক্টর বেলাল হোসেন বলেন, “পিচের বিটুমিন জমাট না বাঁধায় কিছু জায়গায় মটরসাইকেলের কারণে উঠে গিয়েছিল, পরে ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।”
তবে উপজেলা প্রকৌশলী ইনছাফুল হক সরকার বলেন, “কাজে কোনো অনিয়ম খুঁজে পাওয়া যায়নি। কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছিল, ঠিকাদারকে তা মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, এমন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণে যেন কঠোরভাবে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয় এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
Leave a Reply