অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত, পর্যটন খাতকে গতিশীল এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিকে চাঙা করতে বড় এক পদক্ষেপ নিয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ২৮টি বিমানবন্দরের মধ্যে ৭টি বিমানবন্দরকে পুনরায় চালু করার জন্য কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব বিমানবন্দর হলো: ঈশ্বরদী, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, বগুড়া, শমসেরনগর, কুমিল্লা ও তেজগাঁও।
বগুড়া বিমানবন্দর শিগগিরই চালু হচ্ছে
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, জুলাই মাসে বগুড়া বিমানবন্দর চালু করার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে বাণিজ্যিকভাবে সম্পূর্ণ চালু হতে আরও এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে।
লালমনিরহাট বিমানবন্দর: ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার কেন্দ্র
১৯৩১ সালে নির্মিত লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি একসময় দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এর চার কিলোমিটার দীর্ঘ রানওয়ে, হ্যাঙ্গার ও টারমাক আজও বিদ্যমান। জেলা প্রশাসক এইচএম রকিব হায়দার বেবিচক চেয়ারম্যানকে বিমানবন্দরটি সচল করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়, সীমান্তবর্তী ও পিছিয়ে পড়া জেলা লালমনিরহাটসহ পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী ও গাইবান্ধার উন্নয়নের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যটন, আমদানি-রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক ইপিজেডের সুবিধা কাজে লাগাতে এই বিমানবন্দরটি চালু করা হলে, এটি ভারত, নেপাল, ভুটান, সিকিম ও তিব্বতের সঙ্গে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
শমসেরনগর বিমানবন্দর: ইতিহাস আর সম্ভাবনার মিলনস্থল
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত শমসেরনগর বিমানবন্দর বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ৬০০০ ফুট দীর্ঘ এই রানওয়েতে হেলিকপ্টার ও প্রশিক্ষণ বিমান ওঠানামা করলেও এর বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে রয়েছে। বিমানবন্দরটি চালু হলে মৌলভীবাজারসহ সিলেট বিভাগের পর্যটন ও প্রবাসী যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশাল সুবিধা হবে।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া জানিয়েছেন, “পরিত্যক্ত বিমানবন্দরগুলোকে ধাপে ধাপে সচল করা হবে। যেখানে অবকাঠামোগত প্রস্তুতি শেষ হবে, সেগুলো আগে চালু হবে। বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য রানওয়ে, টার্মিনাল ও অন্যান্য অবকাঠামোর রিনোভেশন প্রয়োজন। লালমনিরহাটের জন্য আমরা বিমানবাহিনীর সঙ্গে MoU স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
Leave a Reply