কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
সমকামিতা ও দুর্নীতির অভিযোগে বহিষ্কৃত কুড়িগ্রাম কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হারুন-অর-রশিদ মিলনকে পুনর্বহালের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে কলেজ প্রাঙ্গণ। আজ রোববার সকালে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর অধ্যক্ষের ‘ভাড়াটিয়া বাহিনী’ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
দুপুরে খেজুরতলা মোড় ও কলেজ গেট এলাকায় পৃথক দুটি স্থানে এ হামলার ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে তাদের কলেজে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখা হয়। পরে তারা তালা ভেঙে বের হয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয় পর্যন্ত মিছিল করে এবং স্মারকলিপি প্রদান করে।
ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নেয়া রায়হান হাবিব রনি বলেন, “অধ্যক্ষ মিলন স্যারকে দুর্নীতি ও সমকামিতার অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এখন তাকে পুনর্বহাল করা হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাতে গেলে আমাদের ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রাজ্য জ্যোতি বলেন, “ভাড়াটে বাহিনী আমাদের কর্মসূচিতে হামলা চালায়, শিক্ষার্থীদের কলেজে তালাবদ্ধ করে রাখে। কিন্তু সাহসী শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে বিক্ষোভে অংশ নেয়।”
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তদন্তে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বদরুজ্জামান রিশাদকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর থানার উপপরিদর্শক রাফায়েত জানান, “শিক্ষার্থীরা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে অধ্যক্ষ হারুন-অর-রশিদ মিলনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠে, যার মধ্যে অন্যতম হলো এক কিশোর শিক্ষার্থীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও কলে জড়িত থাকার বিষয়টি, যা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়। তবে উচ্চ আদালতে রিট করার পর সাময়িকভাবে বরখাস্ত আদেশ স্থগিত হওয়ায় তাকে পুনর্বহাল করা হয়। এর পর থেকেই আবারো আন্দোলনে ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ হারুন-অর-রশিদ মিলনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply