মোঃ ফরিদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী রুটে ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্য সংকটের কারণে গত ২৯ দিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় এই রুটে ফেরি সার্ভিস চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর পানির গভীরতা সংকটজনিত কারণে ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপরও ড্রেজিং কার্যক্রম চালিয়ে ফেরি চলাচল সচল রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে অতিরিক্ত পলি জমার কারণে ড্রেজিং কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
নদীপথের এই ফেরি সার্ভিস জামালপুর, ময়মনসিংহ এবং রাজধানী ঢাকার সাথে উত্তরের জেলাগুলোর সহজ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি কৃষি পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই রুট অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে নাব্য সংকটের কারণে সার্ভিসটি বন্ধ থাকায় যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন। যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে স্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় নদী পার হতে হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বিআইডব্লিউটিসির মেরিন অফিসার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান কার্যালয়ের টেকনিক্যাল টিম অতিরিক্ত পলি জমার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। ফেরি চলাচলের জন্য নৌ-চ্যানেলে ৬-৭ ফুট গভীর পানি প্রয়োজন, অথচ বর্তমানে গভীরতা ৪-৫ ফুট। ফলে প্রায়ই ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেজিংকৃত পলি নদীতেই ফেলার ফলে স্রোতের টানে তা ভাটির দিকে জমা হয়ে ডুবোচরের সৃষ্টি করছে। তারা এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চিলমারী-রৌমারী ফেরি সার্ভিসটি বন্ধ থাকায় যাত্রীদের যেমন ভোগান্তি বাড়ছে, তেমনি কৃষি পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় কৃষকরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্থানীয়রা দ্রুত ড্রেজিং কার্যক্রম পুনরায় শুরু করে ফেরি চলাচল সচল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
Leave a Reply