কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ধরলা নদীর তীরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন ১৬ একর জমিতে প্রস্তাবিত ‘ডিসি পার্ক’ নির্মাণে আইনি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানাসহ সরকারের সাত জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৩০ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান কুড়িগ্রামের বাসিন্দা মামুনুর রশিদের পক্ষে এই নোটিশ প্রেরণ করেন।
নোটিশে বলা হয়, প্রস্তাবিত পার্ক নির্মাণে সওজের জমি হস্তান্তরের কোনো অনুমোদন নেই এবং “ডিসি পার্ক” নামে সরকারি কর্মচারীর পদবিকে ব্যবহার করে নামকরণ করা আইনগতভাবে ভিত্তিহীন ও প্রশাসনিক অনিয়ম। নোটিশে আরও বলা হয়, পার্কের নামকরণে স্থানীয় জনমত ও ইতিহাস-ঐতিহ্য উপেক্ষিত হয়েছে, যা ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল।
নোটিশ পাওয়া অন্যান্য কর্মকর্তারা হলেন– মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, সওজ-এর প্রধান প্রকৌশলী এবং রংপুর বিভাগীয় কমিশনার।
এদিকে পার্কের নাম ‘ধরলা পার্ক’ বা ‘ধরলা উদ্যান’ করার দাবিতে জেলা প্রশাসকের বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রায় সাড়ে ৪০০ জনের স্বাক্ষর সংবলিত এ আবেদনে সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন।
আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, ‘সরকারি কর্মচারী হিসেবে ডিসি রাষ্ট্রের আইন ও নিয়মনীতি মেনে চলবেন। সরকারি জায়গায় সরকারি কর্মচারীর পদের নামে (ডিসি পার্ক) পার্কের নামকরণ করার কোনও আইনি ভিত্তি নেই। এটা ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না হলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে।’
প্রসঙ্গত, কুড়িগ্রাম শহরের ধরলা ব্রিজের পূর্বপ্রান্তে ধরলার তীরে সওজ-এর আওতাধীন ১৬ একর সরকারি জমিতে ‘ডিসি পার্ক’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা। পার্ক তৈরির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও এর নাম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জেলাবাসী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তীব্র সমালোচনা।
স্থানীয়দের দাবি, ধরলা তীরে প্রস্তাবিত পার্কের নাম ‘ধরলা পার্ক’ কিংবা ‘ ধরলা উদ্যান’ রাখা হোক। কুড়িগ্রামের ইতিহাস ঐতিহ্যকে ধারণ করে এমন নাম রাখলে তা কুড়িগ্রামের পরিচিতি বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মত স্থানীয়দের।
Leave a Reply