নিজস্ব প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ও স্থানীয় পর্যায়ের জামায়াত নেতা মো. আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ভুয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে প্রতারণা এবং মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, আনিসুর রহমান একটি ভূয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করে অন্তত ২১টি পরিবারকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। এছাড়া ‘বাবু’ নামের এক স্থানীয় ব্যবসায়ীর কাছে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগও উঠে এসেছে।
বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যম, অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ হলে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মো. আনিসুর রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র কোনো পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতা নন; তিনি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের একজন সাধারণ কর্মী মাত্র।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে তাকে সংগঠনের সকল দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কুড়িগ্রাম জেলা আমিরের নির্দেশে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করেছে।
জামায়াতের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে সর্বদা কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আনিসুর রহমানের বিষয়ে পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় জনগণ সঠিক তদন্ত ও দোষীর যথাযথ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা রাজিবপুরে জামায়াত সংশ্লিষ্ট রাজনীতির ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
Leave a Reply