বিশেষ প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় কচাকাটা কলেজের ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের লেকচারার মোছাঃ লাকি খাতুন ইসলামের ফরজ বিধান পর্দা সম্পর্কে কটূক্তি করে চরম বিতর্ক ও উত্তেজনার জন্ম দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, “মুখই যদি ঢেকে রাখতে হয়, তাহলে সৃষ্টিকর্তা মুখ বানালেন কেন?” এবং “পর্দা প্রথা একটি ভয়ংকর অশিক্ষিত প্রথা” যা ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতা ও আলেম-ওলামার হৃদয়ে গভীর আঘাত হানে।
ঘটনার পরপরই নাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে লাকি খাতুনের বাড়ি (রায়গঞ্জ ইউনিয়নের সাপখাওয়া গ্রাম) ঘেরাও করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় তিনি গা ঢাকা দেন। পরে ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষমা চাইলেও তা প্রত্যাখ্যান করে ধর্মপ্রাণ জনতা লাকিকে ‘নাস্তিক’ আখ্যায়িত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনার প্রেক্ষিতে নাগেশ্বরী থানায় লাকি খাতুনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, যার সঙ্গে ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা সাহেব একজন সাব-ইন্সপেক্টরকে (এসআই) তাকে থানায় হাজির করার দায়িত্ব দিয়েছেন। ওসি সাহেব জানিয়েছেন, তিনি দ্রুত ও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এরই মধ্যে কচাকাটা ও নাগেশ্বরীতে বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ ও স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আলেম সমাজ ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ লাকি খাতুনের চাকরিচ্যুতি ও ফাঁসির দাবি জানিয়ে বলেন, “ইসলামের বিরুদ্ধে কেউ কটুক্তি করলে আমরা চুপ থাকবো না।”
অন্যদিকে বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন এই বিষয়ে নিজের ফেসবুকে লাকির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, “নারীর পক্ষে কথা বললেই তাকে তসলিমা বলে গালি দেয় এই সমাজ।” ফলে বিষয়টি আরও রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে নাগেশ্বরী এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জনসাধারণের মাঝে আতঙ্ক ও ক্ষোভ উভয়ই বিদ্যমান। প্রশাসনের প্রতি সকলের আহ্বান, যেন ধর্মীয় অনুভূতিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির দ্রুত, শান্তিপূর্ণ ও যথাযথ সমাধান নিশ্চিত করা হয়।
Leave a Reply