নিজস্ব প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নে গরু চুরির চেষ্টার অভিযোগে মফিজল হক নামে এক ছাত্রদল নেতাকে হাতেনাতে আটক করেছেন গরুর মালিক। পরে মালিকের হাতে কামড় দিয়ে তিনি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী গরুর মালিক। এ ঘটনায় পরদিন গরুর মালিককে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ অক্টোবর রাত আনুমানিক ২টার দিকে মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের নয়াচর ভোটাংপাড়া এলাকার বাসিন্দা ওমর আলীর বাড়িতে গরু চুরির উদ্দেশ্যে মফিজল হক প্রবেশ করেন বলে জানা গেছে। তিনি গোয়ালঘরের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশের সময় বাড়ির মালিকের হাতে ধরা পড়েন ।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ধরা পড়ার পর মফিজল হক তার হাতে কামড় দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরদিন এ ঘটনা নিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি হুমকি দিয়ে বলেন, “শালা কে কোপামু, ধরা পড়লে হয়, ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি।
জানা গেছে মফিজল হক নয়াচর ভোটাংপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইনসাব আলীর ছেলে এবং মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মফিজল হক মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত। এসবের অর্থ জোগাড় করতেই তিনি গরু চুরির চেষ্টা করেছেন বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও জানা গেছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ওয়ার্ড সদস্য গোলাম হোসেনের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত মফিজল হক মীমাংসায় রাজি হননি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে আগামীকাল থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের ছাত্রদলের সিনিয়র সভাপতি মফিজল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply