ভাস্কর চন্দ্র রায়, পাবিপ্রবি প্রতিনিধি :
জুলাই বিপ্লব ও শহিদদের স্মরণে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে এক গণ পদযাত্রা। সোমবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর থেকে শুরু হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে দিয়ে ছাত্রহল-২ ও ছাত্রহল-১ সংলগ্ন সড়ক অতিক্রম করে একাডেমিক ভবনের এলিভেটর হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
গণ পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুল আওয়াল, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী।
পদযাত্রা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুল আওয়াল বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে পাবিপ্রবি। তারই অংশ হিসেবে এই গণ পদযাত্রা আয়োজন করা হয়েছে। যারা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি, আহতদের সুস্থতা কামনা করি এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি জানাই সহমর্মিতা।”
তিনি আরও বলেন, “গত বছর বাংলাদেশে গণতন্ত্র ছিল না, বরং একনায়কতন্ত্র ও হাইব্রিড রেজিমের সূচনা হয়েছিল। সেই শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আমাদের ছাত্রসমাজ যে সংগ্রাম করেছে, তা মূলত একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক দেশ গঠনের আন্দোলন। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা এই পদযাত্রার আয়োজন করেছি।”
পদযাত্রা চলাকালে শিক্ষার্থীরা হাতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবাদী ও প্রেরণামূলক স্লোগানে মুখরিত করেন পুরো ক্যাম্পাস। তাঁদের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছিল— “কোটা না মেধা? মেধা মেধা”, “জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে”, “আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে”, “আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না”, এবং “আমার সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই” এসব স্লোগান আন্দোলনের স্মৃতি আবারও জাগিয়ে তোলে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অংশগ্রহণকারীদের মতে, এই পদযাত্রা কেবল স্মরণ নয়, একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায্য সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিরও বহিঃপ্রকাশ।
Leave a Reply