নাগেশ্বরী প্রতিনিধি:
পৃথিবীর এক প্রান্তে যখন ধ্বংস, হাহাকার আর নির্যাতনে দিন কাটছে ফিলিস্তিনের গাজাবাসীর, তখন অন্য প্রান্তে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের এক ছোট্ট উপজেলা নাগেশ্বরীতে জেগে উঠেছে মানবতার উজ্জ্বল আলো। সেই আলো ছড়িয়ে দিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে রশিদ মন্ডল যুব ফাউন্ডেশন, যারা নিজেদের ক্ষুদ্র সামর্থ্যকে বৃহৎ প্রয়াসে রূপান্তর করেছে।
গত এক সপ্তাহে নাগেশ্বরীর বিভিন্ন বাজার, মসজিদ ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত ৬৪ হাজার ২৭০ টাকা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনে সহায়তায় নিয়োজিত একটি বাংলাদেশি সংগঠনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আজ সকাল ১১টায় প্রেরণ করা হয়।
এই অর্থ প্রেরণ শুধুমাত্র একবারের সহানুভূতি নয় এটি একটি দীর্ঘদিনের দায়িত্বশীলতার ধারাবাহিকতা। এর আগেও নাগেশ্বরী থেকে ফিলিস্তিনের জন্য সাহায্য পাঠানো হয়েছে। এবার রশিদ মন্ডল যুব ফাউন্ডেশন প্রেরিত অর্থ দিয়ে কিছু অসহায় পরিবারকে এক সপ্তাহের বাজার করে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এটি নিছক দান নয়, বরং এক টুকরো আশার চাদর ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা।
এই মহতী উদ্যোগের সময়ে উপস্থিত ছিলেন সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ, কাজী মোঃ আকরামুল হক, মোঃ শাহিন শহিদ (সভাপতি, উপজেলা প্রেসক্লাব), মোঃ রফিকুল ইসলাম রনজু (সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা প্রেসক্লাব) এবং গ্রীন ভয়েসের উপজেলা সভাপতি মাইদুল ইসলাম মামুন।
তাদের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন সেইসব নিবেদিত প্রাণ স্বেচ্ছাসেবকরা, যারা নিরলস পরিশ্রম করে এই অর্থ সংগ্রহে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের নিঃস্বার্থ শ্রম, আন্তরিকতা ও মানবতার প্রতি অঙ্গীকারই এই উদ্যোগকে সফল করে তুলেছে।
উদ্যোগটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান মিজান। তিনি বলেন, “এই অর্থ আমাদের ভালোবাসা, সহানুভূতি আর দায়বদ্ধতার প্রতিচ্ছবি। আমরা চাই পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে নির্যাতিত মানুষের পাশে যেন দাঁড়ানো যায়।” তিনি আরও সকলকে আহ্বান জানান ধর্ম, অঞ্চল বা জাতির সীমা পেরিয়ে যেন মানবতার পাশে সবাই এগিয়ে আসে।
রশিদ মন্ডল যুব ফাউন্ডেশনের এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে একটি দৃষ্টান্ত। একটি উপজেলা থেকেও কীভাবে বিশ্বমানবতার পাশে দাঁড়ানো যায়, তার জীবন্ত প্রমাণ তারা রেখে চলেছে।
Leave a Reply