জীবনের আকাশে কত স্বপ্নের রঙ, কত আশা আর আকাঙ্ক্ষার ছোঁয়া—সবকিছু মূহুর্তের মধ্যেই যেন অন্তর্হিত হয়ে গেল। চিলমারীর অষ্টমীর চর ইউনিয়নের এক সম্ভাবনাময় তরুণ, মোঃ মোবারক হোসেন, জীবনের গতিপথে থেমে গেলেন। এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেলো তার জীবনের উজ্জ্বল প্রদীপ।
২৮ সেপ্টেম্বরের সেই ভোরের স্মৃতিগুলো আজও মুছে যায়নি। সময়ের কঠিন পরিহাসে ময়মনসিংহ থেকে বাসায় ফেরার পথে, তিনি চিরতরে হারিয়ে গেলেন।
মোঃ মোবারক হোসেন ছিলেন তার পরিবার এবং এলাকার সকলের প্রিয়পাত্র। পিতা মোঃ আবু তালেব ফকির, চিলমারী উপজেলার অষ্টমীর চর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, এবং মাতা মোছাঃ লিপি খাতুনের তৃতীয় সন্তান মোবারক তার চার ভাই ও তিন বোনের মাঝে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। পড়াশোনায় ছিলেন মেধাবী, কুড়িগ্রাম আলিয়া মাদ্রাসায় ফাযিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। লেখাপড়ার পাশাপাশি, মোবারক ফ্রেন্ডশিপ লিগ্যাল এইডের অষ্টমীর ইউনিয়ন পরিষদে কাজ করতেন। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তার পরিচ্ছন্ন মনোভাব ও নিরলস পরিশ্রম সকলকে মুগ্ধ করেছিল।
কিন্তু ভাগ্য তার প্রতি এমন নিষ্ঠুর হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। ময়মনসিংহ থেকে সিএনজিতে করে ফেরার পথে ঘটে যায় সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। রাস্তার নিষ্ঠুর মোড় তার জীবনের শেষ মোড় হয়ে দাঁড়ায়। দ্রুত তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে ঢাকা বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু শত চেষ্টা সত্ত্বেও, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মোবারক হোসেন।
তার এই অকাল প্রস্থান শুধু পরিবার নয়, গোটা এলাকাকেই স্তব্ধ করে দিয়েছে। পরিবারের জন্য এই শোকের বোঝা যেন অসহনীয়, আর এলাকাবাসীর মনেও গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। একজন সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীর এই আকস্মিক বিদায় কারো মনের সঙ্গে মানানসই হচ্ছে না। সবাই বলছে, “সে তো ছিলো আমাদের সবার প্রাণ! এমন মেধাবী, এমন সাদামাটা মানুষ কেন এত তাড়াতাড়ি চলে গেলো?” মসজিদ, মাদ্রাসা এবং তার সহপাঠীদের কণ্ঠে এখন শুধুই দুঃখের সুর।
মোবারক হোসেনের জীবনের এই অকাল পরিসমাপ্তি এলাকাবাসীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। যে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তার জন্য অপেক্ষা করছিল, তা আর কখনও পূর্ণ হবে না। মেধাবী এই তরুণের স্বপ্নগুলো, তার আকাঙ্ক্ষাগুলো সব যেন সময়ের বালুচরে বিলীন হয়ে গেল। তার এই নির্মম বিদায় শুধু পরিবারকে নয়, সমাজকেও এক গভীর বেদনার স্রোতে ভাসিয়ে দিয়েছে।
মৃত্যু শাশ্বত, কিন্তু এভাবে, এত তাড়াতাড়ি নয়। মোবারক হোসেন তার অনন্তযাত্রায় পাড়ি জমালেও তার স্মৃতি, তার কাজ, তার মেধা এবং সকলের প্রতি ভালোবাসা চিরকাল সবার মনে বেঁচে থাকবে।
Leave a Reply