কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় টানা দুই সপ্তাহের অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতে মৌসুমী ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান, ভুট্টা ও শাকসবজির ক্ষতির কারণে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক পাট বীজ বপনের জন্য জমি প্রস্তুত করতে না পারায় নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ভূরুঙ্গামারীর ১০টি ইউনিয়নে মোট ১৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান, ১ হাজার ৪৮০ হেক্টরে গম, ১ হাজার ৭০ হেক্টরে ভুট্টা এবং সমপরিমাণ জমিতে বিভিন্ন সবজির আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৭ হেক্টর জমির ভুট্টা গাছ হেলে পড়েছে এবং ২ হেক্টর জমির সবজি নষ্ট হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র অনুযায়ী ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চৈত্র মাসে এমন টানা বৃষ্টিপাত তাদের স্মৃতিতে নেই। এই অস্বাভাবিক আবহাওয়ায় পাটশাক, আলু, বেগুন, করলা, ঢ্যাঁড়স, কচুসহ বিভিন্ন সবজি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি নিচু জমিতে পানি জমে বোরো ধান ও ভুট্টার খেত ডুবে গেছে। ঝড়ো হাওয়ার কারণে অনেক ক্ষেতের ভুট্টা গাছ মাটিতে হেলে পড়ায় ফলন কমে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত আর্দ্রতায় বোরো ধানে মাজরা পোকার আক্রমণ বাড়ার আশঙ্কাও করছেন কৃষকরা।
উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের কৃষক এরশাদ আলী বলেন, “তিন বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছি। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় ঝড়ো হাওয়ায় গাছগুলো হেলে পড়েছে। এতে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে না।” একই ইউনিয়নের আরেক কৃষক মোজাফফর হোসেন জানান, “আলু উৎপাদনে খরচ বেশি হলেও লাভ হয়নি। তার ওপর টানা বৃষ্টি, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বেগুন, পাটশাক, করলা, ঢ্যাঁড়সসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাজারে ঠিকমতো দামও পাওয়া যাবে না সব মিলিয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়ছি।”
সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার গ্রামের ঝুকিয়া বিল এলাকার কৃষক সুররত আলী বলেন, “ধানের খেতে হাঁটুসমান পানি জমে আছে। এই পানি দ্রুত না নামলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।”
তিনি আরও জানান, কৃষকদের সহায়তায় ইতোমধ্যে ২৭০ জনের মধ্যে বিনামূল্যে পাট বীজ এবং ৫০০ জন কৃষকের মধ্যে আউশ ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আসন্ন আমন মৌসুমে প্রণোদনার আওতায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
টানা বৃষ্টির এই বিরূপ প্রভাব দ্রুত কাটিয়ে ওঠা না গেলে ভূরুঙ্গামারীর কৃষিখাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।
Leave a Reply