তারেক খান মজলিশ তারা, কুড়িগ্রাম:
“কোনও মাত্রাই নিরাপদ নয়, সিসা দূষণ বন্ধে কাজ করার এখনই সময়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে “আন্তর্জাতিক সিসা দূষণ প্রতিরোধ সপ্তাহ ২০২৫” উপলক্ষে কুড়িগ্রামে র্যালি, মানববন্ধন ও আলোচনা সভার আয়োজন করে ইয়ুথনেট গ্লোবাল ও পিওর আর্থ বাংলাদেশ, ইউনিসেফের সহায়তায়।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচিটি শেষ হয়। এতে ইয়ুথনেট, পিওর আর্থ, ইউনিসেফ, দ্য গ্রীন নেক্সাস, স্টেপ আপ ফর টুমরো, স্থানীয় যুব সংগঠন, পরিবেশ অধিদপ্তর, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষসহ শতাধিক অংশগ্রহণকারী যোগ দেন।
অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল “সিসা দূষণ বন্ধ হলে, বাড়বে শিশু বুদ্ধি-বলে”সহ নানা স্লোগানযুক্ত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড। এসময় সিসা দূষণবিষয়ক লিফলেট ও স্টিকারও বিতরণ করা হয়।
ইয়ুথনেটের সদস্য মো. নাজমুল ইসলাম সিসা দূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, “এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।”
দ্য গ্রীন নেক্সাসের ইয়াং লিডার ও সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট তারেক খান মজলিশ তারা বলেন, “সিসা দূষণ প্রতিরোধে সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়ানো ও সরকারকে কঠোর আইন প্রয়োগে উদ্যোগী হতে হবে। অপরিকল্পিত কারখানাগুলো হয় পরিবেশবান্ধব করতে হবে, নয়তো বন্ধ করতে হবে।”
ইয়ুথনেট সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস মিম বলেন, “আমাদের মাটি, পানি ও বায়ুতে সিসা ছড়িয়ে পড়েছে। এটি খাদ্যচক্রে ঢুকে মানবদেহে প্রবেশ করছে।”
আরেক সদস্য জান্নাতুল যুথী বলেন, “দূষণ বন্ধে গণসচেতনতা, ভোক্তা পণ্যে সিসার মান নির্ধারণ, অবৈধ ব্যাটারি রিসাইক্লিং বন্ধ ও আইন প্রয়োগের বিকল্প নেই।”
জেলা সমন্বয়ক মো. রাকিবুল ইসলাম তানিম বলেন, “সিসা দূষণ শিশুদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, তবে এটি প্রতিরোধযোগ্য। যুব সমাজই পারে জনসচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে সিসামুক্ত ভবিষ্যৎ গড়তে।”
জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ঘোষিত এ সপ্তাহটি বিশ্বব্যাপী ১৯–২৫ অক্টোবর পর্যন্ত পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য “No Safe Level: Act Now to End Lead Exposure।”
গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ শিশু অর্থাৎ ৬০% শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা অতিরিক্ত। সিসা বিষক্রিয়ায় শিশুদের বুদ্ধিমত্তা হ্রাস, আচরণগত সমস্যা ও শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে, গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভপাত ও মৃত সন্তান প্রসবের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
বিশ্বে সর্বোচ্চ সিসা দূষিত দেশের তালিকায় চতুর্থ স্থানে বাংলাদেশ রয়েছে। এসব কারণে বছরে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ মারা যায় এবং ৬–৯ শতাংশ জিডিপি ক্ষতি হয়।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও এমন জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
Leave a Reply