কুড়িগ্রাম সংবাদ ডেস্ক:
স্বপ্ন যখন বড় হয়, তখন হাজারো প্রতিবন্ধকতা তাকে থামাতে পারে না— তা প্রমাণ করেছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর দরিদ্র পরিবারের সন্তান সালমান ফারসি। বাবার অসুস্থতা, সংসারের অভাব-অনটন, বড় ভাইয়ের বেকারত্ব—সব প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে।
ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পূর্ব ধনিরাম গ্রামের এই মেধাবী শিক্ষার্থী শাহ্ বাজার এএইচ সিনিয়র ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার ছাত্র। তার বাবা আবেদ আলী পেশায় দিনমজুর, তবে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় কর্মক্ষম নন। পরিবারে একমাত্র বড় ভাইও বেকার। এমন কষ্টের সংসারে সালমানের এই ফলাফল পরিবারে নতুন করে আশার আলো জ্বেলে দিয়েছে।
সালমান ফারসি বলেন,
“আমি বাবা-মা আর শিক্ষকদের উৎসাহে ও সহযোগিতায় পড়ালেখা চালিয়ে গিয়েছি। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছি। আমার স্বপ্ন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মানুষের সেবা করা। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”
অভাবের কষ্ট নিয়ে সালমান আরও বলেন,
“নবম শ্রেণিতে থাকতেই টাকার অভাবে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। তখন ঢাকা, সিলেট ও কুমিল্লায় গিয়ে রাজমিস্ত্রীর সহকারী ও দিনমজুর হিসেবে কাজ করি। উপার্জিত কিছু টাকা বাড়িতে পাঠাতাম, বাকিটা পড়ালেখার জন্য জমাতাম। এক বছর পর আবার মাদরাসায় ভর্তি হই। এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাই।”
বর্তমানে সালমান ধারদেনা করে রংপুরে উদ্ভাস কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু অর্থাভাবে ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন তিনি।
“লেখাপড়া চালিয়ে যেতে সরকারি বা বেসরকারি কোনো সহায়তা পেলে স্বপ্নটা পূরণ করতে পারব,” — বলেন সালমান।
তার মা দুলালী বেগম বলেন,
“অভাবের সংসারে ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছে। যদি কেউ পাশে না দাঁড়ায়, ছেলেটার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে—এই ভাবনাই বুক ফেটে দেয়।”
প্রতিবেশীরা সালমানের সাফল্যে মুগ্ধ। তারা জানান, এলাকায় আটজন পরীক্ষার্থী থাকলেও সবচেয়ে কষ্টের মধ্যে থেকেও সালমানের এমন ফলাফল সবাইকে অবাক করেছে। তবে ভবিষ্যতে তাকে সহায়তা না পেলে এই মেধা নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
শাহ বাজার এএইচ সিনিয়র ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম মিঞা বলেন,
“সালমান ফারসি অত্যন্ত মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থী। আমরা শিক্ষকরা তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি। সমাজের বৃত্তবানরা যদি এগিয়ে আসেন, সালমানের মতো শিক্ষার্থীরাই একদিন দেশের সম্পদে পরিণত হবে।”
অদম্য মেধাবী সালমান ফারসির মতো শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোই পারে দেশের ভবিষ্যৎ আলোকিত করতে। তার প্রয়োজন কেবল একটু সহযোগিতা, একটু সহমর্মিতা।
Leave a Reply