নিজস্ব প্রতিনিধি:
দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ সম্প্রসারণে ‘অ্যাকসেস টু জাস্টিস’ (এটুজে) প্রকল্পের আওতায় আইন পেশাজীবীদের জন্য মধ্যস্থতা বিষয়ক বেসিক প্রশিক্ষণ আয়োজন করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।
১ ও ২ আগস্ট, ঢাকার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (জেএটিআই) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন ৫০ জন বিচারক, জেলা আইন সহায়তা কর্মকর্তা, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেন জাপানের অভিজ্ঞ মধ্যস্থতা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইরিয়ে হিদেয়াকি।
জাইকা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ (এলজেডি), এবং জেএটিআই-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল আইন পেশাজীবীদের মধ্যস্থতা বিষয়ে দক্ষ করে তোলা এবং বিচার ব্যবস্থায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির পথকে আরও কার্যকর করা।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদেরকে ইন্টারঅ্যাকটিভ লেকচার ও রোল-প্লে অনুশীলনের মাধ্যমে মধ্যস্থতার নিয়ম, কৌশল ও ব্যবহারিক প্রয়োগ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতে কার্যকর ও মানবিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ শেষে আয়োজিত সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের এবং জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ইচিগুচি তোমোহিদে।
ইচিগুচি তোমোহিদে বলেন, “বর্তমানে বিচার ব্যবস্থার সংস্কার একটি জাতীয় অগ্রাধিকার। জাইকা সবসময় বাংলাদেশ সরকারের পাশে থেকে এ রূপান্তরে সহযোগিতা করে যাচ্ছে এবং আগামীতেও করবে। এটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) ১৬.৩ অনুযায়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।”
সচিব শেখ আবু তাহের বলেন, “মধ্যস্থতায় অংশগ্রহণকারী পেশাজীবীরা নিয়ম-কানুন মেনে চলার পাশাপাশি মানুষের অনুভূতি ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন বলেই আমরা প্রত্যাশা করি।”
২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে যাত্রা শুরু করা এটুজে প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত মোট ২৪০ জন বিচারক, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মধ্যস্থতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সম্প্রতি সংশোধিত লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস অ্যাক্ট অনুযায়ী ‘স্পেশাল মিডিয়েটর’ হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
জাইকা আশাবাদী, এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে মামলা জট হ্রাস পাবে এবং জনগণ আরও দ্রুত ও কার্যকর বিচারসেবা পাবে।
Leave a Reply